সৈয়দপুরে লাইসেন্স ছাড়া ভুয়া মোড়কে নিম্নমানের সার উৎপাদন, ক্ষতির মুখে কৃষক 


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫, ৪:২৬ অপরাহ্ণ /
সৈয়দপুরে লাইসেন্স ছাড়া ভুয়া মোড়কে নিম্নমানের সার উৎপাদন, ক্ষতির মুখে কৃষক 

সৈয়দপুরের আলোঃ সৈয়দপুরে ভুয়া মোড়কে লাইসেন্স ছাড়া নিম্নমানের সার উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে করে কৃষকরা যেমন আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন,তেমনি জমির উর্বরতা ও নষ্ট হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।

ভুক্তভোগিদের তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের বাঁশ বাড়ি টালি মসজিদ সংলগ্ন বাবু নামের এক ব্যাক্তি,,শহরের পপুলার ক্লিনিক সংলগ্ন তুর্য্য, মিস্ত্রিপাড়ার মন্দির রোড এলাকায় বাবু ও জামিল, বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় ২জন সহ ঘনবসতি এলাকায় ঘরের ভিতর নামি-দামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের সার উৎপাদনের পর প্যাকেটজাত করে যাচ্ছে । এরপর সেগুলি সরবরাহ করা হচ্ছে সৈয়দপুর ছাড়াও নীলফামারী সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়।

সৈয়দপুর বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন, কামারপুকুর ইউনিয়ন ও বাংগালী পুর ইউনিয়নের ভুক্ত ভুগি কৃষকরা জানায়, বাজারে কোম্পানির চটকদার মোড়ক দেখে সার কিনছেন তারা। কিন্তু সেগুলি জমিতে ছিটানোর ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়া দুরের কথা, জমির উর্বরতাই নষ্ট হয়ে গেছে। ফসলের জমিতে ওই সার প্রয়োগ করার পর ফসলের রং হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি নিম্নমানের সার উৎপাদন কারির সাথে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মদদ রয়েছে। তা-না হলে সৈয়দপুর উপজেলায় কর্মরত ওই কর্মকর্তা প্রায় দুই বছর সৈয়দপুর উপজেলায় কর্মরত থাকার পরও লাইসেন্স ছাড়া নিম্নমানের সার উৎপাদকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হাই নিচ্ছেন না। এরফলে নিম্নমানের সার উৎপাদকরা কৃষকদের বোকা বানিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিলেও দেখার যেন কেউই নেই। কৃষকরা বলছেন,নিম্নমানের সার উৎপাদকরা কৃষি কর্মকর্তাকে মোটা অংকের অর্থে ম্যানেজ করেছে বলেই ওই সব ব্যবসায়িরা প্রায় প্রকাশ্যে নিম্নমানের সার উৎপাদন ও বাজারজাত করার সাহস পাচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক কৃষি কর্মকর্তা জানান,সৈয়দপুরে যারা জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন তাদের ১ জন ছাড়া কারো কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। ২/১ জন ব্যবসায়ি সার উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন করেছেন।কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত উৎপাদন ও বাজারজাত করার লাইসেন্স দেয়া হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত কোন প্রকার সার উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারবে না কেউই। একই সাথে ক্যামিষ্ট থাকতেই হবে। কিন্তু সৈয়দপুরে লাইসেন্স ছাড়া ভুয়া মোড়কে নিম্নমানের সার উৎপাদনের পর প্যাকেটজাত করা হলেও উপজেলা বা জেলা কৃষি কর্মকর্তারা চোখ কান বন্ধ রেখেছেন। বাশ বাড়ি এলাকার বাবু নামের ব্যাক্তিটি প্রতিমাসে কৃষি কর্মকর্তাদের হাদিয়া দেয় বলেই লাইসেন্স ছাড়া নিম্নমানের সার উৎপাদন কারিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হাই নিচ্ছেন না বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী কৃষকরা অনতিবিলম্বে অবৈধ সার উৎপাদক ও বাজারজাত কারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নীলফামারীর পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এবিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভুষন বলেন,আসলেই কি লাইসেন্স ছাড়া ভুয়া মোড়কে নিম্নমানের সার উৎপাদন হচ্ছে। যদি হয় তাহলে নাম ঠিকানা দিন সময় বের করে ব্যবস্হা নেয়া হবে।