সৈয়দপুরে লায়ন্স কলেজের সভাপতির অনিয়ম-দুর্নীতি,পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ /
সৈয়দপুরে লায়ন্স কলেজের সভাপতির অনিয়ম-দুর্নীতি,পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ

মোঃ মারুফ হোসেন লিয়নঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শফিয়ার রহমান নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে সভাপতি হিসাবে প্রতিমাসে ৭০ হাজার টাকা বেতন নেওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির খরচের নামে সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের আয় লায়ন্স ক্লাবে ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের গাড়ী ব্যক্তিগতকাজে ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের চলমান অন্দোলনের সাথে একাত্মতা জানিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার সৈয়দপুরে বিমানবন্দর সড়ক প্রায় ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে তারা। এ সময় গুরুপূর্ণ এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দুইপাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) , সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার । এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

এর আগে গতকাল রোববার সভাপতি শফিয়ার রহমানের নানা অনিয়মের বিচার চেয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগপত্র দেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শফিয়ার রহমান দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন। অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বরাবের শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে একটি অবেদন দেওয়া হয়। অবেদনে বহির্ভূতভাবে প্রতি মাসে সভাপতির ৭০ হাজার টাকা বেতন গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্য, এমপিভুক্তির খরচের নামে ৭০ জন শিক্ষকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা, বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ নয়ছয় করাসহ অনিয়ম-দুর্নীতির ১৬টি চিত্র তুলে ধরা হয়।

লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি কাজী আসাদুজ্জান বলেন, আনিয়ম দুর্ণীতি বন্ধে আমরা আবেদন দিলে তা আমলে না নিয়ে উল্টো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ ও ২ জন সিনিয়র শিক্ষককে কর্মস্থলে না আসার মত স্বৈরাচারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এমনকি বহিরাগত লোকজন ডেকে শিক্ষকদের লাঞ্চিত করার চেষ্টা চালান। তাঁর এমন ঘটনায় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এর প্রতিবাদ করেন। পরে আমরা বাধ্য হয়ে সভাপতি শফিয়ার রহমানের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিই।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ দেওয়ায় গত সোমবার শিক্ষকদের সাথে গভীর রাত পর্যন্ত মিটিং করে মৌখিকভাবে পদত্যাগের ঘোষ দেন সভাপতি শফিয়ার রহমান। কিন্তু পরেরদিন সেই ঘোষনা থেকে সরে এসে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের মাত্র একজন সদস্যকে সাথে নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন তিনি। ব্রিফিংয়ে নিজের বেতন নেওয়াসহ শিক্ষকদের অভিযোগের ব্যাপারে কিছু না বলে শুধু শিক্ষকদের সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের ওপর দোষ চাপান তিনি। ফলে আজ বুধবার সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগের তাবিতে আমরা এক ঘন্টার কর্মবিরতির ঘোষনা দিই। কিন্তু সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ছুটি ঘোষনা করেন।

অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক তাই আমরা তাদের একাত্মতা ঘোষনা করে । আমাদের শিক্ষকদের লাঞ্চিত করা এবং শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। আমরা আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে আছি বলে জানান তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মোঃ মসিউর রহমান ও সভাপতির মোঃ শাফিয়ার রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।