

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগে সরগরম পুরো এলাকা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ অবৈধ বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তেলির বাজার সংলগ্ন গয়িং বাঁধ এলাকায় নদীর চর ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে রাতের আঁধারে ইঞ্জিনচালিত মেশিন ব্যবহার করে পুকুর থেকেও বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রভাবশালীদের ভয়ে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান হলেও তা সাময়িক; কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পুনরায় শুরু হয় বালু উত্তোলন। শুধু টেপাখড়িবাড়ি নয়, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব-পশ্চিম ছাতনাই ও নাউতারা ইউনিয়নেও একই চিত্র বিরাজ করছে।
প্রতিদিন ১০-১২টি ট্রাক্টর-ট্রলি বালু পরিবহনের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত, আর বর্ষায় এসব সড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বালুবাহী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। ধুলা ও শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময়েও বিকট শব্দে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্তদের কেউ কেউ বালু উত্তোলনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বৈধ অনুমতির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। অপরদিকে ট্রাক্টর চালকদের দাবি, তারা কেবল শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান সৈয়দপুরের আলো কে বলেন, “নদী বা ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। ইতিপূর্বে অভিযান চালিয়ে ট্রলি জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযান সত্ত্বেও কেন বন্ধ হচ্ছে না বালু লুট? কারা রয়েছে এর নেপথ্যে? প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য রুখে দিয়ে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :