

সৈয়দপুরের আলোঃ পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির পাতে ইলিশ এই চিরচেনা দৃশ্য এবার যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে ।নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাজারে ঝলমলে রুপালি ইলিশের সারি থাকলেও নেই সেই পরিচিত ক্রেতার ভিড়। আকাশছোঁয়া দামের চাপে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে ঐতিহ্যের এই মাছ। ফলে একদিকে ক্রেতারা হতাশ, অন্যদিকে বিক্রেতারাও বসে আছেন বিক্রির আশায়। সামনে বৈশাখ চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনায় দামের আরও ঊর্ধ্বগতির শঙ্কা ঘিরে ধরেছে পুরো বাজারকে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সৈয়দপুর রেলওয়ে মাছের বাজার ও পৌর মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সারি সারি ইলিশ সাজানো থাকলেও ক্রেতার ভিড় একেবারেই কম। বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই ইলিশ কেনা থেকে বিরত থাকছেন।
বর্তমানে ১.২ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩১০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ২৭০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম দাঁড়িয়েছে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকায়। ছোট ইলিশও মিলছে না ১৮০০ টাকার নিচে।
অন্যদিকে, ২ কেজি ওজনের বড় ইলিশ প্রতি কেজি ৩২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে, আর ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকা কেজি দরে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। নদীতে মাছ ধরা কমে যাওয়া ও সরবরাহ সংকুচিত হওয়াই এর প্রধান কারণ। এর সঙ্গে বৈশাখকে ঘিরে সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে।
ইলিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফাইয়াজ বলেন,“দাম খুব একটা অস্বাভাবিক নয়, বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। আমি বরিশালের পাথরঘাটা থেকে নিয়মিত মাছ আনি, সেখানে সরবরাহ ভালো।”
তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে আরেক ব্যবসায়ী অমুল্য রায়ের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে। বিক্রি না হলে আমাদেরও লোকসান। বৈশাখে চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে।”
ক্রেতা মশিয়ার রহমানের কণ্ঠে ফুটে ওঠে সাধারণ মানুষের হতাশা। তিনি বলেন,“ইলিশ ছাড়া বৈশাখ ভাবাই যায় না। কিন্তু এই দামে কেনা খুব কঠিন। মনে হচ্ছে এ বছর হয়তো ইলিশ ছাড়া বৈশাখ কাটাতে হবে।”
এদিকে, বাজারে অন্যান্য মাছের দামও বেশি থাকায় বিকল্প খুঁজেও স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সব মিলিয়ে বৈশাখের আনন্দের আগেই বাজারের এমন চিত্র অনেকের মুখে ফেলছে চিন্তার ছাপ।
আপনার মতামত লিখুন :