

সৈয়দপুরের আলোঃ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গোদার বাজার সংলগ্ন হোকলডোবা পাকা রাস্তার পাশে প্রায় দুই মাস ধরে পড়ে আছে এক মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত যুবক। দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে একই স্থানে অবস্থান করা যুবককে স্থানীয়রা রনি নামে ডাকলেও তার প্রকৃত নাম-পরিচয় এখনো কেউ জানতে পারেননি। রনি কথা বলতে পারলেও সবার সঙ্গে সে কথা বলে না। সারাদিন প্রায় একই জায়গায় চুপচাপ শুয়ে বসেই কাটায়। এমনকি শীতকালে সারা রাত ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মত কুয়াশাতেও সে ঐ স্থান পরিবর্তন করেনি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই দীর্ঘ সময় ধরে সে একই স্থানে অবস্থান করছে। রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহনের চলাচলের শব্দ ও শীতে কনকনে ঠান্ডায় সে কখনোই জায়গা ত্যাগ করেনি।
কয়েকজন পথচারী জানান, আমরা মাঝে মধ্যে গভীর রাতে যাতায়াত করি দেখি সে রাস্তার পাশে পাতলা ছেঁড়া চাদর কম্বল গায়ে জরিয়ে শুয়ে শুয়ে কাঁপতে থাকে দেখে কষ্ট লাগে। তাছাড়া আমরা পথচারীরা অনেকে যে যতটুকু পারি তার জন্য খাবার দেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আঃ আলিম জানান, দেখছি সে একই জায়গায় দীর্ঘদিন যাবত আছে। এলাকাবাসী অনেকেই তাকে খাবার দিয়ে যায়। এছাড়া ক্ষুধা লাগলে সে স্থানীয় বাজারে গিয়ে হোটেল ও মুদি দোকানদারদের কাছে চেয়ে যা পায় তাই খায়। এরপর আবার ফিরে এসে আগের জায়গাতেই শুয়ে বসে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ছেলেটিকে এখানে দেখছি। সে মানসিক ভারসাম্যহীন। সে তার নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারে না। অনেক সময় একা একা কথা বলে, আবার কখনো চিৎকার বা কান্না কাটিও করে। আমরা মাঝে মাঝে গোসল ও করিয়েছি, মাঝেমধ্যে পরনের প্রয়োজনীয় কাপড়ও দিয়েছি, অনেক চেষ্টা করেও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, যা-ই খাবার পায়, তাই খেয়ে কোনোরকমে দিন কাটাচ্ছে। একই জায়গায় সে ঘুমায়, শুয়ে থাকে এবং তার সব প্রয়োজনও সেখানেই মেটায়। ঘনকুয়াশায় খোলা আকাশের নীচে পড়ে এভাবে থাকলে অসুস্থ হয়ে পরবে তাছাড়া ব্যস্ততম রাস্তার পাশে শুয়ে থাকলে যখন তখন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। মানসিক ভারসাম্যহীন এই যুবক যদি কারো আপনজন বা পরিচিত হয়ে থাকে তাহলে ০১৭৩৭২৪৬১৭৪ নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান জিয়া।
আপনার মতামত লিখুন :