সৈয়দপুরে ১০ শিক্ষকের কলেজে এক পরীক্ষার্থী, তবুও ফেল


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১৬, ২০২৫, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ /
সৈয়দপুরে ১০ শিক্ষকের কলেজে এক পরীক্ষার্থী, তবুও ফেল

সৈয়দপুরের আলোঃ  কলেজটিতে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ও দুইজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। কলেজটির পরিচিতি থাকলেও শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র একজন। চলতি বছর এই একজন শিক্ষার্থীই শুধুমাত্র এক বিষয়ে (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

আজ বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণা হলে দেখা যায়, কলেজটির একমাত্র পরীক্ষার্থী দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়েও পাস করতে পারেনি। এমন ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সাতপাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসূত্রে জানা যায়, মো: খায়রুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠান থেকে গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ফেল করে। সে এ বছর আবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে ফরম ফিলাপ করে ওই এক বিষয়ে সৈয়দপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা সম্পন্ন করে। ফল প্রকাশে দেখা যায়, ওই একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, অর্থাৎ ওই কলেজ থেকে এ বছর কেউ পাস করেনি; একজন পরীক্ষার্থী, একজনই ফেল।

সূত্রটি আরো জানায়, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক এবং দুইজন কর্মচারী রয়েছেন

সরজমিনে প্রতিবেদক দেখতে পায় বেলা ১১.৩০ এ প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। বাইরে শুধু পতাকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে নেই কেন শিক্ষক শিক্ষার্থী। স্থানীয়রা জানান, দুই একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়ে কোনোরকমে চলছে এ প্রতিষ্ঠান। কলেজের শিক্ষকরাও নিয়মিত আসেন না। ক্লাস ঠিকমতো হয় না প্রতিদিন আগেই ছুটি হয় প্রতিষ্ঠানটি । আজ রেজাল্ট দেওয়ার পর পরেই শিক্ষকরা বিদ্যালয় থেকে চলে গেছে।

অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থী মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন, আমি ১৪০০ টাকা দিয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে। এরপর ক্লাস করার জন্য অধ্যক্ষ স্যারকে কল দিলে তিনি বলেন যে তুমি বাসায় পড়ো প্রাইভেট পড়ো ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ চান না কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই তিনি শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে অনাগ্রহী। আমরা স্যারকে একাধিকবার বলেও তিনি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে চান না। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির জমি নিয়েও রয়েছে ঝামেলা। ১০ বছর আগে আমদের নিয়োগ দেওয়া হলেও আমরা কোনো বেতন-ভাতা পাইনা। প্রতিষ্ঠান ১০ জন শিক্ষক আছে ।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম ভিন্ন কথা বলেন । তিনি বলেন, আমাদের কলেজে নেই কোন শিক্ষক। নেই কোন শিক্ষার্থী যে একজন ছিলো সে গতবছরের শিক্ষার্থী ।শিক্ষক না থাকায় তাই সে ফেল করেছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নেই তবে ঐ শিক্ষার্থীর ক্লাস কে নেয় ? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন আমি নিজেই তার ক্লাস নিছি । শিক্ষক নেই তবুও শিক্ষার্থী কেনো ভর্তি নিলেন? এমন প্রশ্নের উওর তিনি সঠিক উওর দিতে পারেন নাই । এবং তিনি এ বিষয়ে কেনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বারবার এড়িয়ে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, কলেজটি এমপিও ভুক্ত নয়। আমার জানা মতে শিক্ষক থাকার কথা । তবে আমি সঠিক জানি না। বিষয়টি দেখবো ।