সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকা অপরাধীদের নিরাপদ স্থানে পরিনত


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৫, ২০২৫, ৪:২৬ অপরাহ্ণ /
সৈয়দপুর রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকা অপরাধীদের নিরাপদ স্থানে পরিনত

স্টাফ রিপোর্টারঃ সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা বর্তমানে অপরাধীদের নিরাপদ স্থানে পরিনত হয়েছে। চুরি, যাত্রীদের ব্যাগ টানা হেঁচড়া, মাদক কেনাবেচা, সেবন ও পতিতাবৃত্তিসহ এমন কোনো অপরাধ নেই, যা এখানে ঘটছে না। সন্ধ্যার পর রেলস্টেশন ছাড়াও আশপাশের এলাকা আরও ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করেছে। প্রায় প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা সহ মাদক সেবনের আখরা। রেলওয়ে থানার ১০০ গজ পুর্ব পার্শে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। এছাড়া লোহা ও রেললাইনের ¯িøপার সুকৌশলে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের চোখের সামনে এসব অপরাধ ঘটলেও তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না বলে একাধিক জনের অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, রেলওয়ে ষ্টেশনের উত্তর পশ্চিম দিকে জাতীয় পার্টির রেলওয়ে শ্রমিক কার্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল বারী নামের এক রেলকর্মচারী সন্ধ্যার পর প্রায় প্রতিদিনই মাদক বিক্রি সহ মাদকের আখরা বসাচ্ছেন। স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে থানার ৫০ গজ পুর্ব পার্শে চামুয়া ও বাদশা নামের দুই ব্যাক্তি প্রায় প্রতি রাতেই বসাচ্ছেন জমজমাট জুয়ার আসর। ট্রেনে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মগুলোর আশপাশের বেশিরভাগ জায়গা ঘিরে সক্রিয় রয়েছে একাধিক ভাসমান অপরাধী চক্র। বিভিন্ন সময়ে যাত্রী ও পথচারীদের মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় তারা। মাদক বিক্রি, সেবনের আখরা ও জুয়ার আখরার বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন্নবীকে অভিযোগ দিয়ে ও যথাযথ কোন ব্যবস্থাই নেন না তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, আগে দেখা যেতো বাস টার্মিনাল গুলোতে অপরাধীদের আনাগোনা বেশি ছিল কিন্তু বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন যেন সব ধরনের অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য। গত শনিবার ৪ অক্টোবর অক্টোবর রাত দশটায় সরেজমিন দেখা যায়, রেল স্টেশনের উত্তর পাশে প্লাটফর্মে উঠার সময় মসজিদের পার্শে টয়লেট সংলগ্ন ভাসমান মানুষের জটলা। সেখানে রয়েছে একটি দোকান। তারই ফাঁকে দেহ ব্যবসায়ি নারীদের সাথে দর কষাকষি করছে দালালরা। টয়লেট সংলগ্ন যারা জটলা করছে তাদের শ্রমিকলীগ কার্যালয় এলাকায় প্রায় সময় দেখা যায়, আর তারাই রেলওয়ে ষ্টেশনের উত্তর পার্শে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছে। চিহ্নিত মাদকসেবীদের পাশাপাশি রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষকেও গাঁজা ও ইয়াবা কিনতে দেখা যায়। এক সময়ের চিহ্নিত ফেনসিডিল ব্যবসায়ি বেবিয়ার স্বামী বাবুয়ার ছত্রছায়ায় সেখান থেকে খুব সহজেই ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ প্রায় সব ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে। এ কারনে প্লাটফর্ম ও আশপাশ এলাকায় দেখা যায় ভাসমান অপরাধীদের আনাগোনা। এসব অপরাধীর টার্গেট থাকে ট্রেনের যাত্রীরা। মাদক সেবিরা ট্রেন ছাড়ার সময়ে জানালার পাশে থাকা যাত্রীদের মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিস ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলস্টেশন সংলগ্ন জিআরপি থানার ৫০ গজ পূর্ব পাশে জটলা করে প্রতিদিন বহু মানুষ তিন কার্ডের জুয়া খেলায় ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে গোল করে মাটিতে বসে চলে জমজমাট জুয়ার আসর। শ্রমিকদের পাশাপাশি বিত্তবান পরিবারের বখাটে সন্তানরাও অংশ নেয় ওই জুয়ার আসরে। জুয়ার পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত চলে মদ ও বিভিন্ন নেশার আসর। এসকল বিষয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন্নবীকে অবগত করা হলেও তিনি কোন পদক্ষেপই নেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

তবে এসব বিষয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন্নবী জানান, তিনি সৈয়দপুরে যোগদান করেছেন বেশি দিন হয় না। তার যোগদানের আগে কি হয়েছে বলতে পারবো না। কিন্তু আমি যোগদানের পর কোন ধরনের অপকর্ম হচ্ছে না বলে জানান তিনি।