

মোঃ মারুফ হোসেন লিয়নঃ ভেতরে রয়েছে অসংখ্য মানুষ। প্রবেশের সবগুলো পথেই মানুষের দীর্ঘ সারি। মেলামুখী দুই প্রান্তের সড়কে মানুষের ঢল। আজ শুক্রবার ছুটির দিনে সব বয়সী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে নীলফামারর সৈয়দপুরে সদ্য শুরু হওয়া মাসব্যাপী ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মেলায় মেলা প্রাঙ্গণ ।
ছুটির দিন হওয়াতে আশপাশের জেলা থেকেও প্রচুর লোক ভিড় জমিয়েছেন মেলায়। এতে বিক্রি বেড়েছে স্টলগুলোতে। বিগত দিনের তুলনায় ছুটির দিনে বেচা-বিক্রি বেশি হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
আজ শুক্রবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে সৈয়দপুর সেনানিবাস ফেয়ার পার্কে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মেলা ঘুরে দর্শনার্থী এবং বিভিন্ন স্টলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্ষুদ্র কুটির শিল্প মেলায় দুপুরের পর থেকেই মেলার প্রধান প্রবেশদ্বারে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশের পর দেখা গেছে লোকে লোকারণ্য। কেউ এসেছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা এসেছেন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে। অনেকে একাই এসেছেন পরখ করে নিতে। পরে সুবিধাজনক সময়ে পরিকল্পনা নিয়ে সপরিবারে আসবেন বলে।
তবে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে ছবি তুলে সময় কাটাতে দেখা গেছে। আবার অনেকে পছন্দের পণ্যটি খুঁজছেন এবং কেনাকাটা করছেন।
মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, বিভিন্ন পণ্য একসঙ্গে দেখার ও কেনার সুযোগ পেয়ে তারা খুশি। ছুটির দিন থাকায় আজ অধিকাংশ দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসেছেন। মেলায় ঘুরে দেখা ও কেনাকাটা করার জন্য তারা বেশ আনন্দিত।
মেলায় আসা নুসরাত জাহান সৈয়দপুরের আলো কে জানান, শুক্রবারে ছুটি পেয়েছি। সে কারণে পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছি। মেলা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনেছি।
অন্যদিকে, বিক্রেতারাও আজকের ভিড়ে বেশ খুশি। তাদের মতে, ছুটির দিনের কারণে আজ ক্রেতাদের ভিড় বেশি। বিক্রেতারা জানান, তাই আজ তাদের বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে।
বিক্রেতা আরিফুল সৈয়দপুরের আলো কে , শুক্রবার দুপুর ২টা পর থেকে মেলা প্রাঙ্গণে সব বয়সী দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড় ছিল। অন্যান্য দিনের তুলনায় আমাদের বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।
মেলা বাস্তবায়ন ও পরিচালনা কমিটির সদস্যা মোঃ তারেক আহমেদ সৈয়দপুরের আলো কে জানান এ মেলায় শিশুদের বিভিন্ন রাইড ও নানা পণ্যের স্টল রয়েছে। মেলা উদ্বোধনের পর পর দর্শনার্থীদের ঢল নামে। শিশুসহ নানা বয়সী মানুষেরা বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করেন। মেলার দোকান গুলোতে নানা বয়সী ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের তাদের পণ্যের প্রচারসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সৈয়দপুর বিনোদনের জায়গার অভাব রয়েছে। মেলায় বাচ্চাদের বিভিন্ন রাইড আনা হয়েছে। এখানো নানা পণ্যের দোকানের পাশাপাশি খাবারের দোকানও রয়েছে। নানা বয়সী মানুষেরা মেলায় এসে ভাল সময় পাড় করতে পারবেন বলে আশা করছি।
তিনি আরো জানান, মেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশর পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে ভলান্টিয়াররা মেলা প্রাঙ্গণে মোতায়েন রয়েছেন। তাছাড়াও সিসিটিভি ক্যামরায় পুরো মেলা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :