সৈয়দপুরের আলোঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে মতির মোড় বাইপাস সড়কে অবস্থিত মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের অভিযোগে ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন। অভিযানে সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ফিলিং স্টেশনটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে পাশের একটি সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালালে একটি নোয়া গাড়ি ও একটি কাভারভ্যান পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও যানবাহন দুটি ভেতরে জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তর করা ছিল বলে জানায় প্রশাসন।
তল্লাশিতে কাভারভ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপিত মিনি পাম্পের মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল স্থানান্তরের প্রমাণ মেলে। একই সঙ্গে নোয়া গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সরঞ্জাম এবং বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়, যা জ্বালানি স্থানান্তর ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পুরাতন বাবুপাড়া এলাকার আব্দুল রহমানের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৬)-কে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া একই এলাকার মো. সেরাজ (২৫), হাতিখানা এলাকার মঈনুদ্দীন (৪৮), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার জাহাঙ্গীর (৩৫), সাগর (৩৫), মিস শেখ (২৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সিরাজ (২৮)-কে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় আটককৃতদের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী থাকায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন জানান, জব্দকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তা নিকটস্থ পেট্রোল পাম্পে নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে যাচাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সবকিছু জব্দ তালিকাভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।