সৈয়দপুরের আলোঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ভেতরে এখন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় নেত্রীদের নাম সামনে আসছে।
এমন পরিস্থিতিতে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুপা হোসেন সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে তিনি রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রুপা হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা, নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি এলাকায় একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার ও কারাবরণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি হুমকি, হয়রানি ও চাপের মধ্যেও দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যান বলে তারা দাবি করেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর রুপা হোসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর মাজার জিয়ারত করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে রুপা হোসেন বলেন, “দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব অর্পণ করে, তাহলে আমি সেই দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করতে চাই। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতি করতে গিয়ে আমি আন্দোলন-সংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। একাধিকবার মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি, এমনকি কারাবরণও করতে হয়েছে। কিন্তু কোনো চাপই আমাকে দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং এসব অভিজ্ঞতা আমাকে আরও দৃঢ় করেছে।”
তিনি বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম। সুযোগ পেলে আমি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।
সব মিলিয়ে রুপা হোসেনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।।