সৈয়দপুরে পিবিআই পুলিশের ওপর হামলা, মব সৃষ্টি করে প্রতারণা মামলার আসামি ছিনতাই


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ /
সৈয়দপুরে পিবিআই পুলিশের ওপর হামলা, মব সৃষ্টি করে প্রতারণা মামলার আসামি ছিনতাই

সৈয়দপুরের আলোঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে প্রতারণা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদস্যদের ওপর হামলা ও মব সৃষ্টি করে তাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের শহীদ ডা: জিকরুল হক রোড এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলার আসামি মহসিন আলী মন্টু (স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মন্টু’)কে গ্রেপ্তার করতে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের তিন সদস্যের একটি দল সৈয়দপুরে আসে। আসামি শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং খালেদ মার্কেটে একটি গার্মেন্টস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাদা পোশাকে থাকা পিবিআই সদস্যরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মহসিন আলীকে আটক করে নিজেদের পিবিআই পরিচয় দিলে তিনি হঠাৎ করে ‘ভুয়া ডিবি পুলিশ’ বলে চিৎকার শুরু করেন। এতে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে মব সৃষ্টি হয় এবং জনতার একাংশ পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশ বহনকারী মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও চালক গণপিটুনির শিকার হন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আটক ব্যবসায়ী মহসিন আলী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পিবিআই সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন,“নারায়ণগঞ্জ থেকে পিবিআইয়ের তিনজন এসআই একটি প্রতারণা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে সাদা পোশাকে অভিযানে আসেন। আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া পুলিশ বলে চিৎকার করে মব সৃষ্টি করে। এতে জনতা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল মুঠোফোনে বলেন,“আমাদের একটি টিম নিয়মিত মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে সৈয়দপুরে মবের শিকার হয়। স্থানীয় পুলিশের দ্রুত সহযোগিতায় টিমটি নিরাপদে উদ্ধার হয়। আসামি গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয় লোকজনের উসকানিতেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”