নির্বাচনী নিরাপত্তায় কঠোর সৈয়দপুর: যৌথ বাহিনীর মহড়া ও টহল শুরু


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ /
নির্বাচনী নিরাপত্তায় কঠোর সৈয়দপুর: যৌথ বাহিনীর মহড়া ও টহল শুরু

সৈয়লপুরের আলোঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর সমন্বিত নিরাপত্তা মহড়া ও টহল কার্যক্রম। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা, নাশকতা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিশেষ নিরাপত্তা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যৌথ মহড়া শুরু হয়। মহড়ায় অংশগ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন, দুই ভ্যান পুলিশ, প্রায় ৯০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং ২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মহড়া শেষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা, আবাসিক অঞ্চল ও নির্বাচনী সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা টহল পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন চলাচল পর্যবেক্ষণ, যানবাহন তল্লাশি ও জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয়।

নির্বাচনকে ঘিরে জনদুর্ভোগ ও যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর এবং সৈয়দপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে ফুটপাত দখল, রাস্তার ওপর দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। বিশেষ করে শহীদ ডা. জিকরুর হক রোড ও কাপড় মার্কেট রোড এলাকায় রাস্তার ওপর দোকান বসিয়ে যানজট সৃষ্টির দায়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরে আসে।

নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা, ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবেই এই যৌথ বাহিনীর মহড়া ও টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা, গুজব, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের টহল, অভিযান ও যৌথ নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা, সৈয়দপুর আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার এবং সকল অফিসার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেহেদী ইমাম, সৈয়দপুর থানা পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং সৈয়দপুর পৌরসভার কর্মকর্তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতিহা তাকমিলা বলেন, “নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুরে কোনো ধরনের অস্থিরতা, সন্ত্রাস, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে সৈয়দপুর উপজেলাকে সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত ও যানজটমুক্ত রাখতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছি। সাধারণ মানুষের জানমাল ও ভোটারদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্টের চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, “সৈয়দপুর শহরের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা হলো যানজট। নির্বাচন সামনে রেখে শহরের প্রধান সড়কগুলোকে যানজটমুক্ত রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। অবৈধ দখল, ফুটপাত দখল ও রাস্তার ওপর দোকানপাট বসানোর কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। যৌথ বাহিনী ও পৌরসভার সমন্বয়ে এই অভিযান চলমান থাকবে। শহরের শৃঙ্খলা ও নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেই আমাদের এই কঠোর পদক্ষেপ।”

এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যৌথ বাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন নিরাপত্তা টহল ও অভিযান শহরে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।