সৈয়দপুরে উর্দুভাষী ভোটারদের লক্ষ্য করে উর্দুতে নির্বাচনী মাইকিং


Saidpurer Alo প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ /
সৈয়দপুরে উর্দুভাষী ভোটারদের লক্ষ্য করে উর্দুতে নির্বাচনী মাইকিং

সৈয়দপুরের আলোঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নীলফামারী-৪ আসনের সৈয়দপুর শহরে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা দিয়েছে ভিন্নমাত্রার কৌশল। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে বাংলা ভাষার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় মাইকিং করে ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে। উর্দু ভাষায় পরিবেশিত হচ্ছে নির্বাচনী গান, গজল ও প্রচারণামূলক বার্তা, যেখানে প্রার্থীর নাম, প্রতীক (মার্কা) ও ভোট দেওয়ার আহ্বান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উর্দুভাষী (বিহারি) জনগোষ্ঠীর ভোটারদের কাছে সরাসরি ও সহজভাবে বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে উর্দুভাষী ভোটাররা প্রার্থীদের পরিচয়, প্রতীক ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিজ ভাষায় বুঝতে পারছেন, যা প্রচারণায় নতুন কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উর্দু ভাষায় মাইকিংকে ঘিরে সৈয়দপুর শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, বহুভাষিক সমাজব্যবস্থায় ভিন্ন ভাষায় প্রচারণা একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। নাগরিকদের মাতৃভাষায় রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে আরেকটি অংশ বিষয়টিকে সংবেদনশীল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তাদের বক্তব্য, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা অর্জন করেছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে তারা মনে করেন, উর্দু ভাষায় মাইকিং কিছু মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল  বলেন, “আমরাও এ দেশের পূর্ণ নাগরিক। আমাদের ভোটাধিকার আছে, জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে খুব কমই বাস্তবায়ন হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে ক্যাম্পবাসীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর জীবনমানের তেমন পরিবর্তন হয়নি। তবুও আমরা আশাবাদী। সামনে যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তারা যদি আন্তরিকভাবে কাজ করেন, তাহলে আমাদের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

সৈয়দপুরে উর্দু ভাষায় নির্বাচনী মাইকিং একদিকে যেমন উর্দুভাষী ভোটারদের কাছে সহজভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভাষা, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন আলোচনা তৈরি করছে। ফলে এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা শুধু একটি নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবেও স্থান করে নিচ্ছে।