মোঃ মারুফ হোসেন লিয়নঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং অফিসার সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম,জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর আলম সিদ্দিক।বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নীলফামারী জেলা যুব সংহতির সাবেক সভাপতি রওশন মাহানামা।এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন সরকারের ছেলে ও সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান (২০২৪) রিয়াদ আরফান সরকার রানা,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশিদ মামুন,সৈয়দপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন,নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সাবেক এমপি মরহুম আব্দুল হাফিজের নাতি (মেয়ের ছেলে) শাহরিয়ার ফেরদৌস,জোবায়দুর রহমান হীরাসহ আরও তিনজন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন,“দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নীলফামারী-৪ আসনের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করব।”
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর আলম সিদ্দিক বলেন,“জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির অভিযোগ নেই। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের মানুষ জানে আমরা কী করেছি। আশা করি জনগণ এবারও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে।”
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম বলেন,“আমরা আশা করছি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন পর ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা বিজয়ী হব।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন বলেন,“গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ আগামী সংসদে সৎ, সাহসী ও নির্ভীক নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার রানা বলেন,“আমি নির্বাচিত হলে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের মানুষের স্বার্থকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব। জনসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”