মোঃ মারুফ হোসেন লিয়নঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে মাত্র ছয় জন। আর এই ছয় শিক্ষার্থীকে পাঠদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োজিত রয়েছেন চার জন শিক্ষক। ছয় শিক্ষার্থী আর চার শিক্ষক দিয়েই চলছে এই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
গত বৃহস্পতিবার ও রবিবার (৯ ও ১২ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে নিয়োজিত চারজন শিক্ষক সঙ্গে উপস্থিত আছে ছয় শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে , প্রথম শ্রেণিতে আর দ্বিতীয়, চতুর্থ শ্রেণিতে কোনও শিক্ষার্থী নেই। তৃতীয় শ্রেণিতে দুজন ও পঞ্চম শ্রেণীতে চারজন শিক্ষার্থী। পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ বিদ্যালয় ভবনের অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। প্রতিদিন দুইজন বা ছয়জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক বছর আগেও অনেক শিক্ষার্থী ছিল। প্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী সংখ্যা এখন দেখানো হয়েছে ৮৯ জন। তবে প্রতিদিন গড়ে ৪-৬ জন শিক্ষার্থীই ক্লাসে আসে। এখন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ নেই। অনেকে ভর্তি হলেও পরে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যায়। পাশেই অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ ব্রাক ও মাদ্রাসা থাকায় শিক্ষার্থী আসছে না। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়টিকে ৬ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও রয়েছে ৪ জন আর নেই কেনো বাউন্ডরী ওয়ার নেই কেনো অফিস পিওন ।
তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী লিমন ইসলাম বলেন, আমরা ক্লাসে শুধু দুইজন। তাই আমাদের ঠিকমত বিদ্যালয়ে আস্তে ইচ্ছে করে না । আমার কোনো সহপাঠী নেই ।
পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেখা বলেন , আমরা চারজন আছি আজ । বেশকিছু দিন আগেও আমাদের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী ছিলো ইদানিং আমার সহপাঠীরা আসছে না। তাই আমাদেরও বিদ্যালয়ে আস্তে ইচ্ছে করে না ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, পাশেই স্কুলের সামনে একটা মাদ্রাসা আছে আমাদের বিদ্যালয়ের ৮০% শিক্ষার্থী সেখানে গেছে । আমরা দুর থেকে বিদ্যালয়ে আসি তাঁদের পড়ানোর জন্য তো এখানে এসে শিক্ষার্থী না পেলে মন খারাপ হয়ে যায়। কম শিক্ষাথী নিয়ে ক্লাস করাতে হয় । আমরা প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বুঝাই বিদ্যালয়ে আসার জন্য এছাড়াও আমরা অভিভাবক সমাবেশ করছি । প্রতিটি অভিভাবকের বাসায় যাচ্ছি যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠায় বিদ্যালয়ে।
সহকারী শিক্ষক মোঃ নূরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ আমরা তিন জন আছি। ২০১৯ সালে আমাকে এখানে পোস্টিং দেওয়া হয়। আগে যে বিদ্যালয়ে ছিলাম, সেখানে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৫০০ জন। এখানে এসে দেখি শিক্ষার্থী নেই। করোনা মহামারির ওই সময় এক শিক্ষার্থী ছিল। এরপর এলাকা এলাকা ঘুরে শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়েছি ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ছিলো কিন্তু মাঝখানে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যালয় ও সামনেই মাদ্রাসা থাকায় শিক্ষার্থী কমে গেছে আমারা চেষ্টা করছি ইনশাআল্লাহ সামনে বছর শিক্ষার্থী বাড়বে বলে আশা করি।
এ বিষয়ে ডাংগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন বলেন, কয়েক বছর আগেও আমাদের বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী ছিলো কিন্তু কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ের সামনেই মাদ্রাসা থাকায় শিক্ষার্থীরা সবাই ঐখানে চলে গেছে । তারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বুঝিয়েছে যে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা হয় না আর এ কারণেই অভিভাবকরা বাচ্চাদের দেয় না । আমাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক সহ আমিও গেছিলাম। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়েছি। আমরা চেস্টা করছি প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিয়ে যাইতে।