সৈয়দপুরের আলোঃ আমিনুল ইসলাম কর্তৃক বিএনপিকে জড়িয়ে সংবাদ কর্মীদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সৈয়দপুর ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক অফিস সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ রেজাউল করিম (রেজা খান)।
মোঃ রেজাউল করিম এর হয়ে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দপুর রাজনৈতিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিসিক শিল্প নগরীর আমিনুল ইসলামের গোডাউন ঘরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন আমিনুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি রেজাউল খান রেজা দলীয় প্রভাব বিস্তার করে তার মার্কেট ও ভূ-সম্পদ জবর দখল করার অভিযোগ করেন। কথাগুলো শতভাগ মিথ্যা বরং আমিনুল ইসলাম রেজা খানের ক্রয়কৃত দোকান জবর দখল করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পাতিলি বর্মন ৪০/৬২ রেকর্ড মূলে জমির মালিক ১৫/১০/১৯৮৩ ইং সালে মনির উদ্দিন মঙ্গলু জমিটি ক্রয় করেন, যাহার দলিল নং- ১৩৯৪৩, দাগ নং-১০৯৩। খরিদ মূলে বি.এস রেকর্ড পান মনির উদ্দিন। ২০০৭ ইং সালে মনির উদ্দিন বিক্রি করিলে বাচ্চু এঐ জমি খরিদ করেন, যাহার দলিল নং- ৩৮২৯। বাায়ু আবার দলিল দিলেন তার ছেলে এস.এম. জাহিরুল ইসলামকে ১৪/০১/২৫ ইং সালে। ২০০৭ সাল হইতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঐ দোকানে বাচ্চু ব্যবসা করিয়া আসিতেছেন। ০৯ জুলাই তারিখে দলিল নং- ৩২৩১/২৫ মূলে এস.এম, জাহিরুল ইসলাম জমি বিক্রয় করিলে সেটি বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি রেজা খান ক্রয় করেন। দুঃখজনক ঘটনা হইল, বাচ্চু যখন দোকানের মাল সামান বাহির করে সভাপতি রেজা খানকে উক্ত জায়গা হস্তান্তর করতে গেলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ব্যবহৃত দোকান সেখানে আমিনুল ইসলাম গিয়ে বাধা সৃষ্টি করলেন এবং বললেন, এই দোকান আমি পাবো। তখন উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হলে আমিনুল ইসলাম জেলা বিএনপি'র সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকার ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়কে অভিযোগ দেন। অফিসার ইনচার্জ মহোদয় উভয় পক্ষকে জমির দলিলপত্রাদীসহ ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখ বিকালে সৈয়দপুর থানায় আসতে বলেন। উভয় পক্ষ তাদের জমির দলিলপত্রাদী তেনাদের আইনজীবির মাধ্যমে অফিসার ইনচার্জ মহোদয়ের সামনে উপস্থাপন করেন। সেখানে উভয় পক্ষ কাগজপত্র অনুযায়ী জমি সরেজমিনে মেপে কার কোনটি সাইড নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখ দিন ধার্য করে সেখানে দুজন আইনজীবী, ২ জন সার্ভেয়ার, এলাকার চেয়ারম্যান, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে জমি মাপার সিদ্ধান্ত হয়। রাত ৯ ঘটিকার সময় রেজা খান উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক কার্জনকে বলেন বিষয়টি আমিনুল ইসলাম কিংবা তার আইনজীবী এ্যাড. রবিউল ইসলামকে আবারও অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেন। কার্জন তখন আমিনুল ইসলামের আইনজীবী রবিউল ইসলামকে ২৭ সেপ্টেম্বর মাপযোগের কথাটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেন, তার ফোন কল রেকর্ড এখনও আছে।
আবারও ২৭ সেপ্টেম্বর রবিউল ইসলাম বেলা ১১ টার সময় উপজেলা বিএনপি'র সেক্রেটারী কামরুল হাসান কার্জনকে বলেন, আমিনুল সৈয়দপুরে নাই, আজকে মাপ হবে না। তখন কার্জন রেজা খানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। রেজা খান বলেন সকাল ৯টা হতে আমার আইনজীবী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সার্ভেয়ার সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সকলেই এখানেই বসে আছেন। পরবর্তীতে কার্জন ভাই আবারও এ্যাডভোকেট ররবিউল ইসলামকে ফোন করলে তিনি আমিনুলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখ জমিটি মাপযোগের সময় দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখ আবার আমিনুল ইসলাম জেলা বিএনপি'র সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকারের কাছে যান। সেখানে তিনি জমি সরেজমিনে মাপযোগে তেনাকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন। তখন তিনি তেনার ব্যস্ততার কারণে উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জনকে ডেকে দায়িত্ব দেন এবং বলেন, আগামীকাল ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখ আপনারা উপস্থিত থেকে জমি মাপযোগ করে দেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখ আবারও সকাল ১০টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ও তার লোকজন সেখানে উপস্থিত থাকেন। আমিনুল ইসলাম ও তার লোকজন কেউই সেখানে উপস্থিত হন নাই। বিষয়টি সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়কে তাৎক্ষণিক ভাবে মোবাইল ফোনে অবহিত করা হয়। পরদিন তিনি সুকৌশলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যাচার করে বিএনপি'র নামে চাঁদাবাজী, দখলবাজী সহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সৈয়দপুর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন বলেন ,আমিনুল ইসলাম সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপিকে নিয়ে মব সৃষ্টি করে বিএনপি কে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে মোঃ রেজাউল করিম (রেজা খান) বলেন, আমার জমি, আমার দোকান, দলিলপত্র আমার, ১৮ বছর ধরে দখল আমার। অথচ আমিনুল ইসলাম জোরপূর্বক জবর দখল করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে আমি মোঃ রেজা খান ও উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন সহ আমার বিএনপি'র নেতাদেরকে চাঁদাবাজের অভিযোগে অভিযুক্ত করার অপচেষ্টা চালালেন। আমি আরও উল্লেখ করছি যে, চৌমুহনী বাজারে সকল ব্যবসায়ী এবং এলাকার সকল লোকজনের কাছে আপনারা যাচাই করলে তথ্য পাবেন, আমিনুল ইসলাম কতটা দখলবাজ। আবার তিনিই উল্টো আমাকে দখলবাজের অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি আমার জমির সকল দলিলপত্রাদী আপনাদের সমীপে পেশ করলাম। এই আমিনুল কর্তৃক আমি ও আমার দলের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার দাবী করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা বিএনপি, সৈয়দপুর সাধারন সম্পাদক,কার্জন ,বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম রেজা,বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন বিএনপি,সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন, সমস্য সচিব সফিকুল ইসলাম বাবু,বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।