নীলফামারী প্রতিনিধি: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে “শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি” শীর্ষক প্রকল্প। দেশের ৪৮টি জেলায় একযোগে চলমান এই প্রকল্প তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, আত্মকর্মসংস্থান, বেকারত্ব নিরসন এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে হাতে নেয়া প্রকল্পটির সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সারা দেশের ন্যায় নীলফামারীতেও ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৯০ জন শিক্ষিত যুবক-যুবতী। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় মৌখিক পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা তদারকি করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার মো: রাশেদ ভুঁইয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক দিলগীর আলম, সহকারী পরিচালক হাসান আলী, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড এর কো-অর্ডিনেটর ছবি রানী, সহকারী কো-অর্ডিনেটর মাহবুবা আক্তার, ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেইনার সাব্বির আহমেদ, গ্রাফিক্স ডিজাইন ট্রেইনার আব্দুল হালিম ও রেজাউল করিম হীরা। এছাড়া স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে তিনটি ব্যাচে মোট ১৫০ জন যুব ও যুব মহিলা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ সরাসরি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আয় করছেন এবং কেউ কেউ স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা হয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ভিডিও এডিটিংসহ নানা ফ্রিল্যান্সিং খাতে তারা সফলভাবে কাজ করছেন।
চতুর্থ ব্যাচে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ১৯০টি আবেদন জমা পড়ে। প্রতি ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা নির্ধারিত কোর্স মডিউল অনুযায়ী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থী দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা, সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকেলের নাস্তা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ পান।
উপপরিচালক দিলগীর আলম বলেন, “বর্তমান বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিকল্প নেই। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নীলফামারীর তরুণরা শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগই পাচ্ছেন না, বরং নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদেরও কর্মসংস্থান তৈরি করছেন।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের প্রত্যক্ষ তদারকিতে এই প্রকল্প দেশজুড়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা তৈরির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে শুধু বেকারত্ব দূরীকরণ নয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বাংলাদেশ।